LOADING

অটিজম নিরাময়ে তরুণদের ভাবনা

অটিজম নিরাময়ে তরুণদের ভাবনা

by admin December 11, 2018
অটিজম নিরাময়ে তরুণদের ভাবনা

অটিজম নিরাময়ে তরুণদের ভাবনাঃ অটিজম শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘অটোস/আউটোস’ থেকে এসেছে। যার অর্থ আত্ম বা নিজ বা Locked With। অর্থাৎ নিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকা। অটিজম শব্দটির উৎপত্তিঃ অটিজম শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন সুইচ মনোবিজ্ঞানী চিকিৎসক অয়গেন ব্লয়লার( Eugen Blueler)। সিজোফ্রোনিয়ার কিছু উপসর্গ বোঝাতে ১৯১১ সালের দিকে তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৩ সালে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিও ক্যানার ( Leo Kanner) বেশ কিছু শিশুর অসামাজিক আচরণ খুঁজতে গিয়ে এই অটিজম শব্দটি বেছে নেন। তিনি তখন এর নাম দেন ইনফেনটাইল অটিজম। তিনি প্রমাণ করেন অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিক প্রতিবন্ধী বা পাগল নয়। অটিজমের সংজ্ঞাঃঅটিজম মূলত একধরনের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার।অর্থাৎ এটি একধরনের স্নায়ুবিক বা নিউরোলোজিক্যাল বা মনোবিকাশগত সমস্যা যা স্নায়ু বা স্নায়ুবিক তন্ত্রের গঠন ও পরিবর্ধনজনিত অস্বাভাবিকতার ফলে হয় এবং এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একজন মনোবিজ্ঞানী বলেন ” It’s a mental condition present from childhood, characterized by difficulty in communicating and forming relationship with other people and using language and obstruct concepts.” অটিজমে আক্রান্তদের প্রধান বৈশিষ্ট্যঃঅটিজমে আক্রান্তদের প্রধান বৈশিষ্ট্য এরা নিজেকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রাখে বা নিজের জগতে বিচরণ করে। অর্থাৎ অটিজমে আক্রান্তরা নিজেদের কল্পনায় নিজেদের মধ্যে নিজেদের আলাদা জগৎ তৈরী করে নেয়।আর সর্বদা সেই নিজস্ব জগতে বিচরণ করে।Image result for অটিজম

তাই অন্যদের মতো বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেনা।লক্ষ্য করলেই দেখবেন একজন অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রাস্তায় ছেড়ে দিলে তারা নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে। তারা কানে শুনতে পায় কিন্তু গাড়ির হর্ণ তারা পরোয়া করেনা।যার ফলে একা একা রাস্তায় ছেড়ে দিলে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে(সবাই না)।কারণ তারা যাই-ই করুক না কেন তারা হেয়ালীভাবে করে, নিজের ধ্যানে মগ্ন থেকে করে। এর ফলে তাদেরকে ভীষণভাবে অমনোযোগী মনে হয়।এর কারণ একটাই, যে তারা তাদের নিজস্ব মনোজগতে বসবাস করতে থাকে সবসময়।আমাদের চারপাশের জগৎ থেকে নিজেদের আড়াল করে রাখে বা গুটিয়ে রাখে। তারা কখনও কখনও সঠিক কাজও করে ফেলতে পারে তাদের অজান্তেই। তাদেরকে আমরা হাবাগোবা বলে চালিয়ে দিই।তবে তাদেরকে মানসিক রুগী বলা যাবে না। আচরণগত সমস্যা হিসেবে মানিয়ে নিতে হবে। প্রতিবন্ধী কী?ঃ- প্রতিবন্ধী শব্দের আভিধানিক অর্থ বাধাগ্রস্ত ব্যক্তি। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক বিকাশের পথ হয়ে যায় রুদ্ধ। শারীরিক অথবা মানসিকভাবে এরা অসুস্থ ও অসহায় জীবনযাপন করে। সাধারণত শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে যারা সুস্থ নয়,স্বাভাবিক জীবনযাপনে যারা অক্ষম তারাই প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী দুই প্রকার। যথাঃ (১)-শারীরিক (২)-মানসিক °°শারীরিক প্রতিবন্ধীঃ জন্ম থেকেই যারা পৃথিবীর আলো দেখেনি, কিংবা এ সুন্দর পৃথিবীকে দেখার পর কোনো দুর্ঘটনায় যাদের চোখের আলো নিভে গিয়েছে, শব্দ কী যারা জানে না বা একদিন পাখির কলকালতি যাদের ঘুম ভাঙতো একদিন থেকে ঘুম থেকে উঠতে শুরু করলো কোনো শব্দ না শুনেই অর্থাৎ যারা হয়েছে শ্রবণশক্তিহারা, মায়ের মুখের বোল যার মুখে ফোটেনা, যারা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূর্ণতা নিয়ে জন্মায় অথবা কোনো দূর্ঘটনায় হয়ে যায় পঙ্গু তারা সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী।Image result for অটিজম

এরা জন্মগত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়। ‘ মানুসিক প্রতিবন্ধীঃ যাদের শারীরিক বিকাশ ঠিকই ঘটেছে কিন্তু মানসিক বিকাশ ঘটেনি অর্থাৎ এমন অনেকে আছেন যারা চিন্তাশক্তিহীন,স্মৃতিশক্তিহীন বা স্মরণশক্তিহীন তাদেরকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে। প্রতিবন্ধীতার কারণঃ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা দশ ভাগ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। এ প্রতিবন্ধতা নানা কারণে হতে পারে। যেমনঃজন্মগত,অপুষ্টিজনিত,ব্যাধীগত ও দুর্ঘটনাজনিত।দুর্ঘটনা,গর্ভপূর্ববর্তী প্রস্তুতির কোনো অসুবিধা, গর্ভকালে, জন্মের সময় ও জন্মপরবর্তী রোগব্যাধী, পোলিও,টায়ফয়েড, রিকেটস ইত্যাদি রোগ, অপুষ্টি ;প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অজ্ঞাত কোনো কারণে সাধারণ প্রতিবন্ধিতা ঘটে থাকে। অটিস্টিকঃঅটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অটিস্টিক বলা হয়। অটিজম এবং প্রতিবন্ধী এক নয় ঃ অটিজম এবং প্রতিবন্ধী কখনোই এক নয়, যা উপরোক্ত বর্ণনা থেকেই প্রতিয়মান। প্রতিবন্ধিতা যেকোনো সময় হতে পারে। জন্ম থেকেই সৃষ্টিগত ভাবে অথবা জন্মের পর কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিক বা উভয় ভাবেই প্রতিবন্ধী হতে পারে। তারা চিন্তাশক্তিহীন বা স্মরণশক্তিহীন হয়। তারা উন্মাদের মতো আচরণ করতে পারে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা বাহ্যিকভাবে দেখতে অন্য স্বাভাবিক শিশু কিশোরদের মতোই। এদের শারীরিক গঠনে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। মূলত সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং আচরণগত সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিই এদের ভিন্নতার মূল বিষয়। প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিকদের পার্থক্য বোঝার আরেকটি সহজ উপায় সারাবিশ্বে পালিত দিবসের তারিখের ভিন্নতা। প্রতিবন্ধী দিবস ডিসেম্বরের তিন তারিখে। আর অটিজম দিবস ২রা এপ্রিল।

রিপোর্টারঃ মাফরুহা জামান মীম

Social Shares

Related Articles

1 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *