LOADING

আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি?

আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি?

by admin December 24, 2018
আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি?

আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি? মানুষ পরিবর্তনশীল। সে তার মেধা, প্রচেষ্টা এবং শ্রম দিয়ে প্রতিনিয়ত তার জীবনযাপনকে পরিবর্তন করছে।জীবনকে সহজ থেকে আরো সহজতর করছে। সেই প্রাচীন যুগে মানুষ বস্ত্রহীন ছিলো, খাদ্য হিসেবে ফলমূল আহার করতো, একজন আর একজনের সাথে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন আকার-ঈঙ্গিত ব্যবহার করতো। ধীরে ধীরে মানুষ সভ্য হতে থাকে বস্ত্র ধারণ করতে শিখে, আগুন দিয়ে খাবার রান্না করে খেতে শিখে, যোগাযোগের জন্য ভাষার ব্যবহার শুরু করে।

প্রাচীন ও মধ্যযুগ পেরিয়ে আমরা এখন আধুনিক যুগে বাস করি। এই আধুনিক যুগের প্রধান হাতিয়ার হলো প্রযুক্তি। যোগাযোগের জন্য এখন শুধু ভাষার ব্যবহারই হয় না। প্রযুক্তির কল্যাণে খুব সহজেই আমরা এখন দূরবর্তী কারো সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছি। সেই যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যেমন- মোবাইল, টেলিফোন, ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইল ইত্যাদি। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ফেসবুক। ফেসবুকের তথ্যমতে সারা বিশ্বে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুইশো কোটিরও বেশি। বাংলাদেশেও ব্যবহারকারীর সংখ্যা একদম কম নয় প্রায় দুই কোটিরও বেশি।

প্রতিটা জিনিসের কিছু ব্যবহারবিধি থাকে। ফেসবুকেরও কিছু ব্যবহার বিধি আছে। সবকিছু সহজলভ্য হওয়ার কারণে অতিসহজেই আমরা সবাই এখন ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছি। কিন্তু আমরা কি এর ব্যবহারবিধি মেনে ব্যবহার করতে পারছি? একবার ইউটিউবে টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিকের একটা ক্লাস করছিলাম। সেখানে সে বলেছে-“আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি”।  আমি মনে করি তার কথাটা শত ভাগ বাস্তব কথা। আমাদের সবারই হয়তো মনে আছে, আমরা যখন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস করি তখন একটা ওরিয়েন্টেশন হয়।  শিক্ষকরা আমাদের শিখিয়ে দেয় কি করতে হবে, কি করা যাবে না, আচার-আচারণ কেমন হবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে হয়তো সেগুলো হয় না। তবে আমরা নিজেরা তো জেনে নিতে পারি। আমি এমনো অনেক কে দেখেছি যে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরও ফেসবুকে  বাংলা, ইংলিশ লেখাটাও ভুল করে। কোন ধরনের স্ট্যাটাস দিতে হবে, কোন ধরনের ছবি পোস্ট করতে হবে তাও জানে না।  এই যদি হয় শিক্ষিতদের অবস্থা। তাহলে ভাবুন অশিক্ষতরা কী করবে? আমাদের অনেকের ফেসবুক প্রোফাইলের নাম দেখলে হাসি পায়। “আই লাভ ইউ জরিনা, তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, বুকে অনেক কষ্ট,” এধরনের হয় অনেকের প্রোফাইল নাম। আমরা কোন পোস্টে কী কমেন্ট করতে হবে তাও জানি না। মার্ক জাকারবার্গের ফেসবুক লাইভে ও আইসিসির ফেসবুক লাইভেও আমরা কমেন্ট করি “চিকন পিনের চার্জার হবে, নোয়াখালি বিভাগ চাই” ইত্যাদি হাবিজাবি লিখে। যারা এগুলো করে তারা ভাবে এতে কি হবে। কিন্তু এতে অনেক কিছু হয়। সারা বিশ্বের মানুষ সেখানে থাকে। তারা দেখছে বাংলাদেশের মানুষ কেমন। তারা ভাবছে কোথায় কি বলতে হয় আমরা তা জানি না। মাঝে মধ্যেই নিউজ পোস্টের কমেন্ট দেখি, সেখানে দেখা যায় আমরা গালাগালিটা কত ভালো পারি। কারো সমালোচনা যদি করতেই হয় তাহলে ভদ্র ভাষায় তো করা যায়। গালাগালি তো অসভ্যতার লক্ষণ। 

অনেকেই এখন ফেসবুক সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য নানা কিছু করছে। একদিন একটা নিউজে পড়ছিলাম যে শুধুমাত্র ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার জন্য একটা ছেলে  চলতি ট্রেনের নিচে শুয়ে ছিলো, আর অন্য একজনে পাশ থেকে সেটার ভিডিও ধারণ করছিলো। যেন সেটা ফেসবুকে আপলোড করে তাড়াতাড়ি ভাইরাল হওয়া যায়। এটা তো সিম্পল বিষয়। এখন ভাইরাল হওয়ার জন্য মেয়েরা শরীর দেখাতেও দ্বিধাবোধ করে না। এইতো কয়েকদিন আগেও বিপিএল এর ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন এক মেয়ে স্ট্যাটাস দিছে যে “ঢাকা ডায়নামাইটস হেরে গেলে সে ছোট পোশাক (এখানে অন্য কিছু বলছে ভদ্রভাবে বলার জন্য ছোট পোশাক শব্দটা ব্যবহার করেছি) পড়ে লাইভে আসবে। ভাবতে পারেন এরা কতটা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ? সামাজিক মাধ্যমটাকে এরা অসামাজিক করে ফেলছে। ভাইরাল যদি হতেই হয়, এতোই যদি আপনাদের জনপ্রিয় হওয়ার ইচ্ছা তাহলে শরীর দিয়ে নয় বুদ্ধি দিয়ে হওয়ার চেষ্টা করুন। এমন কিছু করেন যা সমাজের জন্য কল্যাণকর। তাতে আরো বেশি জনপ্রিয় হওয়া যাবে।

অনেকে তো ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে। এরা এমন পর্যায় চলে গেছে যে ফেসবুক ব্যবহার না করে থাকতে পারেনা। ব্যাপারটা এমন যে এরা ফেসবুককে ব্যবহার করেনা উল্টো ফেসবুক এদেরকে ব্যবহার করছে। সারাক্ষন ফেসবুকে থাকতে থাকতে এরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে এরা যন্ত্রের মতো হয়ে যাচ্ছে। বিবেক, বুদ্ধি ও মনুষ্যত্ব সব কিছু লোপ পাচ্ছে। এরাই পরে বিভিন্ন সাইবার অপরাধের জড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুক শুধু লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং ছবি আপলোড করার জন্য না। এর মাধ্যমে অনেক ভালো কিছু করা যায়। বলতে গেলে ফেসবুক এখন একটা ডিজিটাল সিভি। আপনি ফেসবুক প্রোফাইলটা ভালো ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন। আপনি কোন কোন কাজে পারদর্শী, আপনার প্রিয় শখ কি, আপনার কোন ধরনের কাজ করতে ভালো লাগে সেগুলো সেট করুন। একটা কথা মনে রাখতে হবে ফেসবুক এখন নিজের একটা বহিঃপ্রকাশ। অনেকেই আপনার প্রোফাইল দেখতে পাবে। আপনি কোন ধরনের পোস্ট দিচ্ছেন, কোন ধরনের ছবি আপলোড করছেন, কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, সব কিছু তারা দেখছে। তাই নিজের ব্রান্ডিংটা ভালো ভাবে করুন। এমন কোন কিছু করবেন না যেটা দেখে মানুষ হাসাহাসি করে। আপনার কাছ থেকে যেনো আর একজন কিছু শিখতে পারে এমন কিছু করেন।Image result for ডিজিটাল

সবশেষে একটা কথা বলতে চাই সবাই যে এরকম তা নয়। অনেকেই এখন ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক ভালো ভালো কাজ করছে। কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে রক্তদান কর্মসূচী করছে, কেউ বিজনেস করছে, কেউ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করছে, এরকম বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করছে। এর বড় একটা উদাহরণ টেন মিনিট স্কুল। যার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ ঘরে বসে বিনামূল্যে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ক্লাস করতে পারছে। আমাদের সবারই উচিত যার যার অবস্থান থেকে এরকম উদ্যোগ গ্রহন করা, নতুন নতুন আইডিয়া তৈরি করা। যেটা নিজের এবং সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে। বর্তমানে উন্নতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো প্রযুক্তি। যত ভালো ভাবে এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করা যাবে তত তাড়াতাড়ি উন্নতির শিখরে পৌছানো যাবে। তাই আমাদের প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করাটা শিখতে হবে। চলুন সবাই প্রতিজ্ঞা করি আজ থেকে যেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।

রিপোর্টারঃ রায়ান রাকিব

Social Shares

Related Articles

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *