LOADING

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য আর কতদিন?

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য আর কতদিন?

by admin December 08, 2018
কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য আর কতদিন?

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য আর কতদিনঃ লিঙ্গ” যেটা প্রাকৃতিক নিয়মে নারী ও পুরুষের মাঝে শারীরিক পার্থক্য বহন করে। “লিঙ্গ বৈষম্য” যেটা সমাজ ও সংস্কৃতির বিধিবদ্ধ নিয়মে গঠিত। কমলা ভসিন তার Understanding Gender বইয়ে বলেন—Gender refers to the socio-cultural definition of man and woman, the way societies distinguish men and women and assign them social roles. আামদের সমাজের নারীরা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে। দৈনন্দিন কাজকর্ম, স্বাধীনতার অধিকার, চলাফেলার অধিকার, নিজ পছন্দের অধিকার, সিদ্বান্ত গ্রহণের অধিকার সবক্ষেত্রে নারী বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নারীদেরকে পুরুষরা শাষন ও শোষন করছে। পুরুষের দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদেরকে। আমাদের সমাজে নারীদের অবলা মনে করা হয়। তাদের ধ্যান ধারনা,বাকস্বাধীনতা, চিন্তাভাবনা কোন কিছুতেই তাদের মূল্যায়ন করা হয় না। বিশ্বের সর্বত্র এখনো “নারীর কাজ” এবং “পুরুষের কাজ” এভাবে চিহ্নিত করে অর্থনৈতিক শ্রমকে লিঙ্গীয় পেশায় পৃথকীকরন করা হয়।

Related image

এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোতে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ নানা সামাজিক ধর্মীয় কারণে নিরুৎসাহিত করা হয়। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর আজও বহুমুখী বৈষম্যের শিকার। নিয়োগ ও পদোন্নতির বেলায় অসম মানদন্ড, প্রশিক্ষণের অসম সুযোগ, সমান কাজের অসম মজুরি,নির্দিষ্ট কতগুলো পেশায় যোগদান নিষিদ্ধকরণ, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের অসম অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। নারী ও পুরুষ উভয়ই একে অপরের উপর নির্ভরশীল। সৃষ্টিকর্তা এভাবেই একে অপরকে সৃষ্টি করেছেন। উন্নয়নের প্রতিটা ক্ষেত্রেই নারী ও পুরুষ উভয়ের অবদান ছাড়া কখনোই উন্নয়ন সম্ভব না। একা পুরুষের রাজত্বে কখনোই দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে রাখার একটি অন্যতম কারণ হল “নারী শিক্ষা”। নারীদের যদি সঠিক শিক্ষা দেওয়া হয় তাদের যদি পুরোপুরিভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায় তাহলে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে। লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে নারী শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান হাতিয়ার।নেপোলিয়ন বলেছিলেন– “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও,আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দিব।” আমাদের সমাজে যদি নারীরা শিক্ষিত হয় তাহলে তাদের প্রতিটি সন্তান হয়ে উঠবে শিক্ষিত। আমাদের সমাজের নারীদের নিজেদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটা পরিবর্তন করতে হবে। নিজেকে ঘরে বসে থাকার যন্ত্র ভাবা যাবে না, নিজেকে দূর্বল ভাবা যাবে না। নিজের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকতে হবে, মনে সাহস রাখতে হবে, সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া দৃঢ় মানসিকতা অর্জন করতে হবে।

Related image

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন— “পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। এই কথা থেকেই বোঝা যায় সর্বক্ষেত্রে উন্নতি সাধনের জন্য নারী ও পুরুষের কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। “একক নারী শক্তি” কিংবা “একক পুরুষ শক্তি” কারো পক্ষেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। যেখানে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন সেখানে একা কিভাবে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।। আমাদের রাষ্ট্রের উচিত প্রতিটা নারীর শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দেয়া। শিক্ষা ব্যতীত কখনোই নারীরা অগ্রসর হতে পারবে না। একমাত্র শিক্ষাই পারবে নারীকে বৈষম্য থেকে দূরে রাখতে, সাহসী হয়ে উঠতে এবং নিজের অধিকার বুঝে নিতে। এতে সমাজ হয়ে উঠবে কুসংস্কারমুক্ত আর নারী ও পুরুষের সমান অবদানে গড়ে উঠবে একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ।

রিপোর্টারঃ S M Nigar SultanaTajrin Rahama Tisha

Social Shares

Related Articles

2 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *