LOADING

জলবায়ু সংরক্ষণে তরুণদের ভাবনা

জলবায়ু সংরক্ষণে তরুণদের ভাবনা

by admin December 10, 2018
জলবায়ু সংরক্ষণে তরুণের ভাবনা

জলবায়ু সংরক্ষণে তরুণের ভাবনাঃ একটা সময় ছিলো যখন আমাদের এই দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশ বলা হতো। পুকুরভরা মাছ ছিল, গোলাভরা ধান ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেসব চিত্র আর দেখা যায় না পরিবর্তিত হয়েছে অনেক কিছুই। বর্তমানে নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে দিন বদলের জন্য টিকে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ছোটবেলায় পরিবেশের সংঙ্গা পড়তাম কিছুটা এরকম, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই নিয়ে আমাদের পরিবেশ। আরেকটু নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, চারপাশের ভৌত অবস্থা ও জলবায়ু এবং প্রভাব বিস্তারকারী সকল কিছুর সমষ্টিই পরিবেশ। পরিবেশের প্রধান উপাদান হিসেবে ধরা যায় মাটি, পানি ও বায়ু তথা জলবায়ুকে। কোনো দেশের জলবায়ু নির্ভর করে সে দেশের প্রাকৃতিক অবস্থা ও ভৌগলিক অবস্থানের উপর। বর্তমানে আমাদের দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। এভাবেই দূষণ চলতে থাকলে এ দেশ হয়ে পড়বে বসবাস অযোগ্য। তাই নিরাপদ জীবনযাপন করার জন্য এদের সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের আগে জানতে হবে এরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় এবং পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান পানি।Image result for জলবায়ু

‘এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে থেকে জানা গেছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নদীর পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে। পানি দূষন বলতে পানিতে কোন বিষাক্ত দ্রব্য অথবা দূষিত বর্জ্য পদার্থ মিশ্রণের ফলে মানব ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। পানি দূষনের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হয় কলকারখানার বর্জ্য, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বর্জ্য, নদীপথে চলাচলকারী বাহন এর বর্জ্য ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে পানি দূষিত হচ্ছে। নদ-নদীর পাশে তৈরী হচ্ছে কলকারখানা এবং সেসব কলকারখানার সকল বর্জ্য কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই ফেলা হচ্ছে নদীতে যার ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। যার উদহরণ হিসেবে বলা যায় ব্রক্ষপুত্র নদের কথা, যা একসময় দূষনের ফলে তার নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে জাতীয় পানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ পানি দূষণ পুরো জীববৈচিত্রকে প্রভাবিত করে, তাই পানি দূষণ রোধে সকলকেই সচেষ্ট হতে হবে। পরিবেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মাটি। মাটি দূষণও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে যার ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মাটি বা মৃত্তিকা দূষণ বলতে রাসায়নিক বর্জ্যের নিক্ষেপ কিংবা ভূ-গর্ভস্থ ফাটলের কারণে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণের কারণে জামির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়াকে বুঝানো হয়ে থাকে। মূলতঃ সাধারণ রাসায়নিক পদার্থ হিসেবে পেট্রোলিয়াম হাইড্রোজেন ও কার্বনের মিশ্রিত যৌগ, কীটনাশক, সীসা এবং অন্যান্য ভারী পদার্থ মাটি দূষণের জন্য দায়ী। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানসমূহ দিন দিন আরো বেশি দূষিত হয়ে পড়ছে যার ফলে মনবজীবন হয়ে পড়ছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত একটি জরিপ থেকে জানা যায়, প্রতি বছর যতো মানুষের মৃতু্য হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত অসুখবিসুখের কারণে।Image result for জলবায়ু

এছাড়াও বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে যেখানে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হতে হবে নয়তো মানবজীবন ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। জলবায়ু বলতে বোঝনো হয় কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ২০-৩০ বছরের আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থার গড় হিসাবকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণভাবে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত। বিশ্বব্যপী জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ার ফলে বাংলাদেশের জলবায়ুও পরিবর্তিত হচ্ছে, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। সাধারণভাবে জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্বব্যপী তাপমাত্রার এ বৃদ্ধি কিছু কিছু অঞ্চলের জন্য উপকারী এবং কিছু কিছু অঞ্চলের জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে দেখা দেবে। সেসব ধ্বংসাত্মক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে সকল উপকূলীয় সমভূমি এবং বদ্বীপসমূহ, এসব অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়বে যার ফলে উর্বর কৃষিভুমি হ্রাস পাবে এবং খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। আর যদি এমনটা ঘটে তবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় অর্ধেক এলাকা বঙ্গোপসাগরের নিচে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যাভাব, কর্মসংস্থানের সংকট প্রভৃতি সমস্যার সৃষ্টি হয়। সুতরাং এখনই সময় পরিবেশ ও জলবায়ু দূষণের কারণসমূহ ভালোভাবে জানা এবং মানবজীবনকে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সচেতন হওয়া ও দূষণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানোর জন্যে সচেষ্ট হওয়া।

রিপোর্টার – আজিজা সরকার রিমি, ফাহরাহা পায়েল

Social Shares

Related Articles

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *