LOADING

মাদক থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়

মাদক থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়

by admin December 25, 2018
মাদক থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়

মাদক থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়ঃ মাদক দ্রব্য হলো একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে এবং যা আসক্তি সৃষ্টি করে। মাদক দ্রব্যে বেদনানাশক কর্মের সাথে যুক্ত থাকে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক, আচ্ছন্নতা রক্তচাপ পরিবর্তন ইত্যাদি । মাদক দ্রব্য গ্রহণ করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং দ্রব্যের উপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি দ্রব্যটি গ্রহণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে ব্যক্তির এই অবস্থাকে বলে মাদকাসক্তি এবং যে গ্রহণ করে তাকে বলে মাদকাসক্ত। মাদকদ্রব্য সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধি। যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ ব্যাধির ছোবলে পড়ে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, দেশ ও জাতির কর্ণধার। এসব তরুণকে সত্য, সঠিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মধ্যে দেশের কল্যাণ নিহিত। আর এ যুব বা তরুণ সমাজের বিপদগামিতার অর্থ দেশের অনিবার্য বিপদ। আমাদের সমাজ নানাভাবে ব্যধিগ্রস্ত। যুব সমাজ এ রোগের শিকার। যে তরুণের ঐতিহ্য রয়েছে সংগ্রামের, প্রতিবাদে, যুদ্ধজয়ের সেই যুবশক্তিকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র। যেমন যে সব খাদ্য, পনীয় বা বস্তু সুস্থ মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটায়, জ্ঞান-বৃদ্ধি লোপ করে এবং নেশা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে আমরা মাদক দ্রব্য বলে থাকি।

এমন কোন দেশ সম্ভবত বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেখানে মাদকাসক্তির কালোছায়া দেশের যুব ও তরুণ সমাজকে স্পর্শ না করেছে।

বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের মাদক দ্রব্য চালু আছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মাদকদ্রব্যেরও বৈচিত্র সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানকালের মাদকদ্রব্য হিসেবে হিরোইন, মারিজুয়ানা, এল, এসডি. প্যাথেডিন, কোকেন, হাসিস, মরফিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে হিরোইন ও কোকেন সবচেয়ে মূল্যবান। আমাদের যুব সমাজ যে সব মাদক দ্রব্য ব্যবহার করে তার মধ্যে প্যাথেজিন, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, ভাং চারস ইয়াবা ইত্যাদি প্রধান। যুগে যুগে ন্যায় ও সত্যের জন্য সংগ্রাম করে যারা জীবন উৎসর্গ করে, নব জীবনের সঙ্গীত রচনার ভার যাদের উপর,তারাই যুবক। যারা বয়সে নবীন, মন যাদের বিশ্বাসে ভরপুর,যাদের চোখে ভবিষ্যতের রঙ্গিন স্বপ্ন যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। পুরাতনকে ভেঙ্গে চুরে নতুন কিছু গড়তে চায়,তারাই তরুণ। তারুণ্য স্থবির নয়, সে সদা চঞ্চল। সে পরাজয় মানতে নারাজ। তারা দেশ ও জাতির গৌরব। কিন্তু এ তরুণ বা যুব সমাজই যখন অসৎ পথে পা বাড়ায়, আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়, তখন তা জাতির জন্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তাদের বিপদগামিতার কারণে জাতীয় জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। মাদকের গোলক ধাঁধায় পড়ে আমাদের যুবসমাজও এখন দিশেহারা ও বিভ্রান্ত। যুবসমাজের মধ্যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাস্তানী ইত্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটে যুবসমাজকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে নানা অনাচারের সঙ্গে সঙ্গে মাদকাশক্তি ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।Image result for মাদক

মাদকাশক্তির ফলে যুবসমাজ আজ লক্ষ্যহীন। যুব সমাজের বর্তমান যেমন বিশৃঙখলা পূর্ণ, ভবিষ্যৎও তেমনি আঁধারে ঢাকা। সুখী সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অামাদের এখনি তা প্রতিরোধ প্রয়োজন। মাদক দ্রব্যের ছোবলে গোটা দেশ আজ আক্রান্ত। এর ভয়াবহ পরিণতি দেখে প্রশাসন বিচলিত, অভিভাবকরা আতঙ্কিত, চিকিৎসকরা দিশেহারা। মাদক আসক্তদের জন্য খোলা হয়েছে “এ্যান্টি ড্রাগ সেল” দেশের হেরোইন চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মত কঠোর আইন রয়েছে। তারপরও মাদক আসক্তির পরিমান উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য পাড়ায় পাড়ায় গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাছাড়াও মাদকাসক্তির কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে যেমন-(১) নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রসার করা, (২) চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, (৩) বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, (৪) সামাজিক আন্দোলন হিসাবে গ্রহণ করা, (৫) মাদক দ্রব্যের সহজ লভ্যতা রোধ করা, (৬) মাদক বিরোধী আইন প্রতিষ্ঠা করা, (৭) মাদক দ্রব্যের কুফল সবার কাছে তুলে ধরা, (৮) পারিবারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, (৯) ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে গণ সচেতন করে গড়ে তোলা, (১০) খারাপ সঙ্গ পরিত্যাগ করা, (১১) সেবনকারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা, (১২) মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় রোধ করা, (১৩) পাঠ্য সূচীতে মাদক সেবনের ভয়াবহতা তুলে ধরা, (১৪) মাদক দ্রব্য প্রতিরোধ দিবস জাতীয় ভাবে পালন করা।

রিপোর্টারঃ এইচ আর সোহেল রানা

Social Shares

Related Articles

2 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *