LOADING

মাদক নির্মুলে দরকার সচেতনা, প্রতিরোধ সমাধান নয়

মাদক নির্মুলে দরকার সচেতনা, প্রতিরোধ সমাধান নয়

by admin December 08, 2018
মাদক নির্মুলে দরকার সচেতনা, প্রতিরোধ সমাধান নয়

মাদক নির্মুলে দরকার সচেতনা, প্রতিরোধ সমাধান নয়ঃ মাত্র কয়েকবছর আগে খবরের কাগজের একটা শীরোনামে চোখ পরতেই সারাটা দেহ হিম-শীতল হয়ে গিয়েছিলো অনেকের-ই। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে,মেয়ে কিনা তার নিজের মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সামান্য মাদকের টাকা যোগাড় এর জন্য।আমি কার কথা বলছি?সেই মেয়েটির নাম উল্লেখ না করলেও এখন কারো-ই অজানা নয়।হয়তো ঘটনাটি কয়েকবছর আগের,কিন্তু এর এর রেশ এখনো রয়ে গেছে আমাদের সমাজে। মাদকাসক্তি হচ্ছে অভ্যাসগত চেতনা উদ্রেককারী দ্রবের ব্যাবহার যা মানসিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত করে এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নিওরো কেমিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাদক সেবনের পরপরই ব্যক্তির মস্তিষ্কের কিছু কিছু জায়গায় অতি দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে ডোপেমিন নামক নিওরোট্রান্সমিটার বৃদ্ধি পায়, যা একজন ব্যক্তিকে মাদকের আনন্দ দেয় এবং পরবর্তী কালে ব্যবহারে উৎসাহিত করে। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত তাদের বেলায় আবার উল্টোটা দেখা যায়। অর্থাৎ দীর্ঘদিন মাদক নেয়ার ফলে যে ডোপেমিন একজন মানুষকে নেশার আনন্দ দিত তা আস্তে আস্তে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তি আসলে একটা সময়ে আর আনন্দের জন্য নেশা নিচ্ছে না। এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং এটা থেকে একসময় বের হয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Image result for মাদক

দীর্ঘদিন মাদক ব্যবহারকারীদের ডোপেমিন এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের যে সমস্ত জায়গা ডোপেমিন এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করে থাকে সেই জায়গাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।ফলে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে বিষবাষ্পর মতন মিশে আছে মাদকের ভয়াল কালো থাবা।যদি আমরা মাদককে রোধ করতে চাই তাহলে আমাদের সর্বপ্রথম জানতে হবে ২টি বিষয় সম্পর্কে।প্রথমতঃমাদক কেনো গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়তঃমাদক কখন গ্রহন করা হচ্ছে। এই ২টি প্রশ্নের সমাধান যখন আমরা বের করতে পারবো তখন আশা করি মাদকের সমাধানটি আমরা দিতে পারবো। বিভিন্ন কারনে মাদক গ্রহন করা হয়।যেমনঃ *মাদকের সহজলভ্যততা *বাসস্থানের আশেপাশের পরিবেশ *পারিবারিক অসচেতনতা,অবহেলা,সমস্যা। *হতাশা,বেকারত্ব,একাকীত্ববোধ। *প্রেমে ব্যার্থতা। *সপাঠীদের চাপে পড়ে বা বাধ্য হয়ে। *বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে। *আকাশ সংস্কৃতির কু-প্রভাব। প্রভৃতি মাদকগ্রহনের কারনগুলোকে সামনে রেখে আমরা যদি কাজ শুরু করি তাহলে মাদককে প্রতিরোধ করা সত্তিই সম্ভব।

পরিবার – “A strong family bonding is a pre-condition for a successful social administration” অর্থাৎ একটি সফল সামাজিক প্রশাসনের অন্যতম শর্ত হলো শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন। পরিবার থেকে একজন মানুষ সামাজিক,নৈতিক,ধর্মীয়,মূল্যবোধ শিখে।পবিবার-ই হচ্ছে একজন মানুষের সর্বপপ্রথম সামাজিকীকরণ স্থান।

একটি সন্তান যদি পরিবার থেকে সঠিকভাবে সামাজিকীকরণ শিক্ষা না পায় তাহলে সেই শিশুটির মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিপুল ঝুঁকি রয়েছে।তাই পরিবারকে একটি শিশুর সঠিক সামাজিকীকরণের জন্য পূর্ণ সহায়তা করতে হবে।এতে শিশুটির মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। আমার জীবনের একটি বাস্তবভিত্তিক কাহিনী বলছি।সিদ্দিক আমার-ই বন্ধু।পড়াশুনায় ছিলো দারুণ। সকল প্রকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সে ছিলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী। প্রান চাঞ্চল্যকর এই কিশোরটি হঠাৎ কেনো যেন গুমড়া হয়ে যায়।নিজেকে লুকিয়ে ও গুটিয়ে নেয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে।পিতা-মাতার বিবাহ বিচ্ছেদ এর ঘটনা কোনভাবেই মেনে নিতে না পেড়ে আজ সে মাদকাসক্ত। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেসা করি যে সে কেনো মাদক নেয় উত্তর এ সে আমায় বলে,”রাখি আমি যখন ঘুমের টেবলেট আর ইয়াবা খাই না তখন না আমার খুন শান্তি লাগে।মা-বাবা যতোই ঝগড়া করোক না কেনো কিছুই আমার কাবে আসেনা।” সে আমায় এটাও বলে যে ” যখন আমি দেয়ালে আঘাত করি তখন দেয়াল দোলে কিন্তু আমার হাত দোলে না” সিদ্দিক এর এই পরিনতির জন্য দায়ী কে?উত্তরটি সবার-ই জানা।আজকে যে ভালোবাসা তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার কথা সেই শান্তি নাকি সে মাদকের কাছ থেকে পায়।এক্ষেত্রে তার পারিবারিক অবহেলা-ই তার মাদকাসক্ত হয়ার কারণ।

Image result for মাদক

সে যদি তার অভিভাবকদের থেকে ভালোবাসা পেতো। বাবা-মায়ের মনমালিন্য থেকে বিবাহ-বিচ্ছেদ না দেখতো তাহলে সে মাদকাসক্ত হতো না। শুধু মাদককে প্রতিরোধ করলেই হবে না।এর প্রতিকারও করতে হবে।মাদকাসক্তদের মাদকমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনতে হবে।তাদের ঘৃনা করে দূরে ঠেলে না দিয়ে তাদের সাহায্য করতে হবে মাদকমুক্ত হতে। গুনীজনেরা বলেন “পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়”।কিন্তু হায় কেও বলে না মাদককে ঘৃনা করুন,মাদকাসক্ত কে নয়”। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি যদি সঠিক পুনর্বাসন,সুসঙ্গের মাধ্যমে বা সহয়তায় মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে তাহলে কেনো আমরা তাকে সুন্দর আলোকিত জগৎ এর স্বাদ নিয়ে সাহায্য করবোনা? তাদের মাদকমুক্ত করতে সকল প্রকার সহায়তা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। পরিশেষে শুধু এটাই বলব যে ব্যাক্তি,পরিবার,প্রশাসন,সমাজ,রাষ্ট্র এর যৌথ সচেতনতায় এবং সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলার বুক থেকে মাদককে নিশ্চিহ্ন করে এক সত্তিকার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমারা সক্ষম হবো।

রির্পোটার – রাখিমুন আজাদ, এইচ আর সোহেল রানা

Social Shares

4 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *