LOADING

মাদক নিরসনে চাই তরুণদের অংশগ্রহণ

মাদক নিরসনে চাই তরুণদের অংশগ্রহণ

by admin January 15, 2019
মাদক নিরসনে চাই তরুণদের অংশগ্রহণ

মাদক নিরসনে চাই তরুণদের অংশগ্রহণ: মাদক বা ড্রাগস হলো বিষধর সাপের বিষাক্ত ছোবলের মতো যা প্রতিনিয়ত একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে তার দংশনে নিঃশেষ করে দেয়। যার প্রভাব আমরা আমাদের যুব সমাজে বেশি দেখিতে পাই। কিন্তু আমরা কখনো ভেবে দেখেছি কি? যুব সমাজের এই পরিণতির জন্য অনেকাংশে দায়ি শুধুমাত্র মাদক দ্রব্য এবং মাদকাসক্তি সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকা! ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) বলেছে, মাদক গ্রহণের ফলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও এই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। ফাঁদে একবার জড়ালে স্বাস্থ্যহানি ঘটে, সৃজনীশক্তি শেষ হয়ে যায়। ‘স্বাস্থ্যহানি’ বলতে কেবল দৈহিক স্বাস্থ্যের কথা বলা হচ্ছে না। দেহের পাশাপাশি বিশৃঙ্খল ও বিধ্বস্ত হয়ে যায় মনের স্বাস্থ্য, পুড়ে যায় আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক চিত্রে নেমে আসে দুর্যোগ।

এক্ষেত্রে মাদকাসক্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বেশ কিছু কারণ: ১। মস্তিষ্কে এক বিশেষ ধরনের প্রটিনের পরিমাণ কম থাকা এবং মলিকিউলার মেকানিজমের ফলে মাদকাসক্তি দেখা যায় বলে একটা সমীক্ষায় জানা গেছে। ২। মাদকাসক্তদের মস্তিষ্কে GAT-3 প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকায় তারা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ৩। এছাড়াও মাদকাসক্তির বড় কারণ হল মাদকের সহজলভ্যতা, মাদকের প্রতি তরুণ প্রজন্মের কৌতূহল ও নিছক মজা করার প্রবণতা, মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রকৃত ধারণার অভাব, মাদক বিষয়ে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি। ৪। মাদকাসক্তির আরেকটি বড় কারণ হল পরিবার। বাবা-মায়ের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি। ৫। এছাড়াও রয়েছে বন্ধুদের চাপ, পারিপার্শ্বিক কারণ, ব্যার্থতা। এমনকি মাদক নিয়ে স্মার্ট হওয়ার প্রবণতাও অনেককে ঠেলে দেয় মাদকের জগতে। দেশে ৭৩ লাখ মাদকাসক্ত। মোট জনগোষ্ঠী ১৬ কোটির অনুপাতে এ সংখ্যা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। এত বিপুলসংখ্যক মাদকাসক্তের বিপরীতে একটি মাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মাদকের করাল গ্রাসে দেশের বিপুুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে এখনও একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়া সম্ভব হয়নি। গতানুধিক প্রতিবছরই ২রা জানুয়ারি পালন করা হয় মাদকদ্রব্য অধিদফতরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হলেও জনবল ও সরঞ্জামাদি যানবাহনের সঙ্কটে মাদক অধিদফতর এখন নিজেই পঙ্গু প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এটিকে এখনও একটি কমগুরুত্বের ও চরম অবহেলার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদকাসক্তির প্রতিরোধ ও এর প্রতিকার কিভাবে করা যায় মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা, পরিমিত জীবন যাপন, বন্ধু নির্বাচন, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পথ। ১.পারিবারিকভাবে সন্তানের উপর খেয়াল রাখতে অবে যে সে কোন অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছে কিনা, কেমন বন্ধু বান্ধবের সাথে সে মিশছে। পরিবারের কেও মাদকে আসক্ত হলে তাকে এর খারাপ দিকগুলো বোঝাতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তুলতে হবে। খেলাধূলাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োজিত থাকতে উৎসাহিত করতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে মাদকদ্রব্য সেবন বন্ধ করার জন্য নিজের ইচ্ছায় যথেষ্ট । ২.সামাজিকভাবে মাদক দ্রব্য প্রসার রোধে এর ক্তিক্র দিক সম্পর্কে গনসচেতনতা সৃষ্টি করা। মাদকাসক্তদের সুস্থ করে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। মাদকদ্রব্য সহজলভ্যতা রোধ করা। নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা।

রিপোর্টার: তানভীর আহমেদ, স্বর্ণা।।

Social Shares

Related Articles

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *