LOADING

মাদক প্রতিরোধে করণীয়

মাদক প্রতিরোধে করণীয়

by admin January 23, 2019
মাদক প্রতিরোধে করণীয়

আমরা এমন একটি সময় এ বর্তমানে অবস্থান করছি যে সময়টিতে আমাদের যুব সমাজ প্রায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।
কারনটা হলো মাদক।এমন কোন কাজ নেই যার সাথে আমাদের যুব সমাজ জড়িয়ে নেই।চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই,ইভটিজিং ইত্যাদি সকল প্রকার অপরাধের সাথে তারা জড়িত।”Domestic Violence report 2014″ অনুযায়ী দেখা গিয়েছে প্রায় ৮১% মাদকাসক্ত ছেলে-মেয়ে পিতা-মাতাকে সম্মান করেনা,৭৯% মাদকাসক্ত যুবক স্ত্রিকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে,৯০% তরুন তরুণী অবৈধ যৌন সম্পর্কের সাথে জড়িত,প্রায় ৯৯%ছেলে-মেয়েই কোন না কোন অপরাধের সাথে জড়িত। এই হলো আমাদের অবস্থা। চারিদিক এ শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে,কর্মসংস্থানের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে তাও কেনো এই অবস্থা।প্রশ্নটা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরটা সহজ “মাদক”।

মাদক আমাদের যুব সমাজের অবক্ষয়ের মূল কারন। অবক্ষয় বলতে আমি একজন যুবকের চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতন কে বুঝাচ্ছি। এখন যদি প্রশ্ন আসে যে মাদক যুব সমাজের অবক্ষয়ের প্রধান কারন নয় তাহলে ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে তা স্পষ্ট করা যায়, ধরুন একটী বীজ মাটিতে রূপন করা হলো তাতে পানি দেয়া হলো তা সূর্যের আলো পেলে ও একদিন তা একটি বৃক্ষে পরিণত হলো। এবার বীজটির বৃক্ষে পরিণত হওয়ার পিছনের মূল কারণ কোনটি?বীজ,পানি নাকি সূর্যের আলো? মূল কারণটি হচ্ছে বীজ।সূর্যের আলো এবং পানি কেবল সহায়ক ভূমিকা রাখে।এক্ষেত্রে প্রধান কারন হচ্ছে বীজ। মাদক কেনো এবং কিভাবে আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তার প্রধান ৩ টি প্যারামিটার হলো :
১:মাদক আমাদের বিবেকবোধ ধ্বংস করে দেয়।
২:মাদক অস্বাভাবিক, আমাদের মদ্ধে এডভেঞ্চার সৃষ্টি করে।
৩:মাদক সকল অপরাধের জননী।
আজকে “মাদক আমাদের বিবেকবোধ ধ্বংস করে দেয় ” এই প্যারামিটার টি নিয়ে লিখবো।

একটি ঘটনা বলি,
মাদকাসক্ত এক বাবা তার শিশু সন্তানের লাশ ঘরে রেখে দা হাতে আরেক শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ৬ ঘন্টা ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় অধিবাসীদের উৎকন্ঠার মধ্যে রাখেন।পুলিশ অবশ্য কৌশ্লে তাকে বাড়ির বাহিরে এনে আটক করতে সক্ষম হয়ে ছে।কাফনে মোড়ানো শিশু সন্তানের লাশ ও উদ্ধার করেছে র‍্যাব পুলিশের সদস্যরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ ডিসেম্বর রোজ:বুধবার।মাদকাসক্ত বাবার অত্যাবারে তার ভাইয়েরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে অনেক আগেই।তার স্ত্রী গত ঈদুল আজহার সময় বাপের বাড়ি চলে গেছে।কিন্তু মাদকাসক্ত ব্যাক্তিটি তার কাছে বাচ্চা দুটিকে রেখে দেয়।তার মৃত শিশু সন্তানটি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সে মসজিদের ইমাম অ আলেম কে ডেকে নিয়ে আসেন তার বাসায়।কিন্তু তার উন্মত্ত আচরনে ইতিমধ্যে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বাড়ির সামনে অবস্থান করলে তিনি মসজিদ এর ইমাম ও আলেমকে আটকে রেখে বড় ছেলেকে হত্যার হুমকি দেন।”

মাদকাসক্তি একজন মানুষকে কতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন করে তুলে ঘটনাটি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। একজন পিতা যে কিনা তার সন্তানের জন্মদাতা সে নিজেই তার এক সন্তানের লাশ ঘরে রেখে আরেক সন্তাকে আটক করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।কোনো বিবেকবোধ সম্পূর্ণ মানুষ কখনো এইধরনের অমানবিক কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করতে পারেনা।এই বিবেকহীন কাজটি সেই ব্যাক্তিটিকে দিয়ে করিয়েছে মাদক।আজ যদি তিনি মাদক না নিতেন তাহলে তার এমন চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতন হতোনা।এই ঘটনা মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখরে পারবে বলে আশা করছি। মাদকে না বলতে হবে। মাদক একটু একটু করে আমাদের সভ্যতাকে বিনাশ করার মহাখেলায় মেতে উঠেছে।জনসচেতনতা ছাড়া মাদকের ভয়াল কালো থাবা থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে না। তাই আসুন সকলে জনসচেতনতা তৈরি করে একত্রে বলে উঠি “মাদককে না বলুন।বাংলার মাটিতে মাদকের স্থান নাই। “তাহলেই আমরা সর্বনাশা মাদকের হাত থেকে রক্ষা পাবো।

রিপোর্টারঃ রাখিমুন আজাদ

Social Shares

Related Articles

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *