LOADING

লিঙ্গ বৈষ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান কোথায়?

লিঙ্গ বৈষ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান কোথায়?

by admin January 19, 2019
লিঙ্গ বৈষ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান কোথায়?

লিঙ্গ বৈষ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান কোথায়? লিঙ্গ বৈষম্যের কথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে নারী নির্যাতনের চিত্র। কিন্তু লিঙ্গ বৈষম্য শুধু নারী পুরুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে নারীর পাশাপাশি আরেকটি নিপীড়িত গোষ্ঠী আছে, যাদেরকে হিজড়া নামে অভিহিত করা হয়। দক্ষিণ এশিয়াই ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। বিশেষ করে, ভারতের রূপান্তরকামী বা রূপান্তরিত লিঙ্গের নারী পুরুষদের বুঝিয়ে থাকে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে রূপান্তরীত লিঙ্গের হিজড়ারা আরাভানি বা আরুভানি বা জাগাপ্পা নামে পরিচিত। বাংলা ভাষায় আন্তঃলিঙ্গ ব্যক্তিবর্গকেও বোঝানো হয়ে থাকে।অর্থাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ক্রোমোজমের ত্রুটির কারণে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি,যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা যায়।পাকিস্তান ও বাংলাদেশে, হিজড়াগণ সরকার কর্তৃক তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। যারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষ বা নারী কোনোটায় নয়, সমাজ কর্তৃক পরিত্যাজ্য, তাদের এ নামে অভিহিত করা হয়। উর্দুতে এদের খাওয়াজা সিরাও বলা হয়ে থাকে।

Image result for হিজড়া

ইংরেজিতে বলা হয় Hermaphrodite বা উভলিঙ্গ। যেখানে জননাঙ্গের অনুপস্থিতিই উক্ত সংগার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। কেউ কেউ আছেন যারা শারীরিক ভাবে অর্ধনারী বা অর্ধপুরুষ নয়। কেউ কেউ আছেন বাহ্যিকদৃষ্টিতে শারীরিক গঠনগতভাবে পুরুষ হলেও মনোজগতে নারী। তারা নিজেদের জীবন নারীদের মতো কাটাতেই চায়। এটা তাদের ব্যক্তিগত চয়েসের বিষয়। যাই হোক, সমাজে এই তৃতীয় লিঙ্গ খুবই অবহেলিত।পরিবার কর্তৃক অবহেলিত, সমাজ কর্তৃক ত্যাজ্য, মানুষ কর্তৃক এরা অপমানিত। সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মধ্যে এরা রয়েছে। যেহেতু পরিবার কর্তৃক অবহেলিত,তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মতো এরা সুযোগ সুবিধা পায়না। মৌলিক অধিকার থেকে এদের বঞ্চিত করা হয়। স্মাজ এদের বাজে দৃষ্টিতে দেখে। সমাজের কোথাও এরা গ্রহণযোগ্যতা পায়না। ফলে পড়ালেখা এবং এই জগতের সাথে তাল মেলাতে পারেনা। যার ফলে পিছিয়ে পড়ে।চাকরি ক্ষেত্রেও এদের গ্রহণযোগ্যতা আগে একেবারেই ছিলো না। এরা দলবেঁধে নাচ গান করে,মানুষের থেকে জোর করে টাকা আদায় করতো। মানুষের ত্রাসের কারণ ছিলো এরা।আমরা কি ভেবে দেখেছি,কেনো তাদের এ পিথ বেছে নিতে হবে?

তারা যেহেতু রক্তে মাংসে গড়া মানুষ, তাদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে।পরিবার এদের ত্যাগ করে সামাজিক মর্যাদা আর লোক লজ্জার ভয়ে।তাই নিজেদের জীবন রক্ষায় টাকা উপার্যনের জন্য এই পথ বেছে নিতে তারা বাধ্য হয়।তাদেরও আর পাঁচজনের মতো স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার আছে।তারাও যে আমাদের মতো মানুষ, এই বোধ আমাদের মিধ্যে জাগ্রত করতে হবে। তাদের পড়ালেখা সহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সম্মানজনক কর্মসংস্থার নিশ্চিত করন এ গোষৃঠীকে নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতে পারে।আমাদের সমাজ এ গোষ্ঠীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতেই ব্যর্থ। সমাজের এ গোন্ডি থেকে বের হয়ে এই সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে তরুণ সমাজিকেই হাল ধরতে হবে। যার মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ অন্যতম। এমন সমাজ গিড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষে মানুষে থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ। কেউ আর স্বীকার হবেনা কোনো বৈষম্যের। লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে যেন কোনো মানুষ পিছিয়ে না পড়ে এ ব্যপারে লক্ষ রাখতে হবে।

রিপোর্টারঃ ইরতিজা তোহফা

Social Shares

Related Articles

1 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • admin

    Onek sundor hoisa

    Reply